২৯ অক্টোবর ২০২৬ , ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

পিঠা বিক্রি করে মাজেদার মাসে আয় লাখ টাকা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ন্যশনাল টাইমস টোয়েন্টিফোর.কম
আপলোড সময় : ০২-১০-২০২৫ ০৮:১১:৩৩ অপরাহ্ন
পিঠা বিক্রি করে মাজেদার মাসে আয় লাখ টাকা

দেশে কেবল শীতকাল এলেই পিঠা বিক্রির ধুম পড়ে যায়। কিন্তু এমন প্রথা ভুল প্রমাণিত করেছেন মাজেদা বেগম। শুধু শীত নয়, ছয় ঋতুতেই চিতই পিঠা বিক্রির ধুম চলে তার দোকানে। শুধু পিঠা বিক্রি করেই তিনি মাসে আয় করেন লাখ লাখ টাকা।

 
 

 

বলছিলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের মাজেদা বেগমের কথা। তার তৈরি নানা রকমের শতাধিক রকমের ভর্তা দিয়ে চিতই পিঠা খেতে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছুটে আসেন পিঠা প্রিয় মানুষ। 

উপজেলার বাহেরচর বাজারের পিঠা দোকান কেন্দ্র করে ক্রেতাদের সমাগমে দৈনিক ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বিক্রি হয় তার দোকানে। মাসে প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার পিঠা বিক্রি হয় বলে জানান তিনি।

 

 

মাজেদা বেগমের বয়স ৫০ ছুঁইছুঁই। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে চিতই পিঠা বানিয়ে সংসার চালান তিনি। সংসারে ৫ মেয়ে ও দিনমজুর স্বামীকে নিয়ে তাদের সংসার। 

মাজেদা বেগম প্রতিদিন ১২টি চুলায় ১ হাজারেরও বেশি চিতই পিঠা তৈরি করেন।

 
প্রতিটি পিঠা বিক্রি হয় ১০ টাকায়। তবে ডিম ও মসলাসহ স্পেশাল ডিম পিঠা বিক্রি হয় ৩০ টাকায়। পিঠার সঙ্গেই ১০০ পদের ভর্তা ফ্রি দেওয়া হয়। এটা একটা বাড়তি আকর্ষণ পিঠাপ্রেমীদের কাছে।

 

যার যতবার খুশি ভর্তা নিতে পারবে।

 
তিন রকমের পিঠা তৈরি হয়, চিতল, চাপটি এবং ডিম চিতল। প্রতিদিন (গ্রীষ্ম মৌসুমে) ৫০-থেকে ৬০ কেজি আতপ চাল লাগে। তবে শীত মৌসুমে সেটির পরিমাণ আরো বহুগুণে বেড়ে যায়। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে বেচাকিনি।

 

১০০ পদের ভর্তা বানানোর জন্য ১২-১৩ রকমের শুঁটকি, বিভিন্ন রকমের মাছ, কয়েক রকমের ডাল, বাদাম, ধনেপাতা, মরিচ, মৌসুমি সবজি ব্যবহার করেন তিনি। অভিনব কায়দায় ক্রেতাদের পিঠার প্রতি আকর্ষণ বাড়িয়ে তোলার জন্য মাজেদা বেগম ক্রেতাদের দিকে পিঠা ছুড়ে মারেন, সেই পিঠা তারা লুফে নিয়ে সানন্দে বিভিন্ন পদের ভর্তা মিশিয়ে খেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে। তার এই চিতই পিঠার দোকানকে কেন্দ্র করে প্রায়ই ৫০-১০০ জন মানুষের জটলা লেগে থাকে। 

হোমনা থেকে পিঠা খেতে আসা সফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকায় চিতই পিঠা পাওয়া গেলেও ১০০ পদের ভর্তা পাওয়া যায় না। তাই আমরা নানান রকমের ভর্তার স্বাদ নিতেই এখানে আসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাজেদা আপার পিঠা বানানো দেখে বন্ধুবান্ধবসহ এসেছি। 

পিঠা খেতে আসা ইমরান হোসেন বলেন, আমরা পাঁচটি মোটরসাইকেল নিয়ে কয়েকজন বন্ধু মিলে এখানে পিঠা খেতে এসেছি। বাঞ্ছারামপুরের ফেসবুক বন্ধুর পোস্টের মাধ্যমে ৯০ থেকে ১০০ পদের ভর্তা দিয়ে চিতই পিঠা খাওয়ার বিষয়টি জানতে পারি। চিতই পিঠা দিয়ে টাটকা ভর্তার স্বাদ বেশ ভালোই লেগেছে।

মাজেদা বেগমের স্বামী মো. রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, আমার পাঁচ মেয়ে। দশ বছর ধরে পিঠা বানানোর ব্যবসা করে দুই মেয়ে বিয়ে দিয়েছি, তিন মেয়ে মাদরাসায় পড়ে। আমাদের সংসার ভালোই চলছে, আমরা বেশ আনন্দে আছি। অনেক থানার মানুষ আমার এখানে পিঠা খেতে আসে। মানুষ আনন্দ পায় আমরাও বেশ সুখে আছি।  

মাজেদা বেগম বলেন, আগে পরিবারে অভাব-অনটন ছিল। বর্তমানে আমাদের অবস্থা অনেক ভালো। ৯ বছর ধরে আমি পিঠা বিক্রি করছি। আমি প্রথমে ৫০০০ টাকা পুঁজি নিয়ে পিঠা বিক্রি শুরু করলেও এখন আমি বেশ ভালো আছি। 

তিনি বলেন, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, নবীনগর, হোমনা, দাউদকান্দিসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এখানে পিঠা খেতে আসে। শুক্রবারে ভিড় থাকে বেশি। এদিন দ্বিগুণ পিঠা বিক্রি হয়।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ